কখনো জাদুকরী ড্রিবল, কখনো গোল, কখনো অ্যাসিস্ট, ব্রাজিলের আক্রমণে বছরের পর বছর ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। জাতীয় দলের জার্সিতে ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকাদের একজন। তার পায়ে ছিল সৃজনশীলতা, গতির সঙ্গে ছিল কৌশল, আর ছিল ম্যাচের চেহারা বদলে দেওয়ার সামর্থ্য। সেলেসাওদের হয়ে বহু ম্যাচে তিনি একাই হয়ে উঠেছেন পার্থক্য গড়ে দেওয়া ফুটবলার। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন নেইমার জুনিয়র।
ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল দল। এই দিনেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমার।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার বলেন, আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ। এই কথার মধ্য দিয়েই ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের অধ্যায়ের শেষ টেনে দিলেন নেইমার। দীর্ঘদিন ধরে চোট, ফিটনেস সমস্যা এবং প্রত্যাশার ভার সামলে জাতীয় দলের হয়ে লড়েছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে চোট যেন বারবার থামিয়ে দিয়েছে তাকে। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর আবার জাতীয় দলে ফিরেছিলেন নেইমার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে তার সংক্ষিপ্ত কথাতেই ছিল দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আবেগ, ক্লান্তি ও অপূর্ণতার ভার। ‘আমি চেষ্টা করেছি’..এই কথায় যেন ফুটে উঠল ব্রাজিলের জার্সিতে সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার অনুভূতি। নেইমারের বিদায়ে শেষ হলো ব্রাজিল ফুটবলের এক বর্ণময় অধ্যায়। সেলেসাওদের হয়ে তার গল্প হয়তো ট্রফির পূর্ণতায় শেষ হলো না, তবে স্মৃতি, আবেগ ও অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্তে সমর্থকদের মনে থেকে যাবে নেইমার জুনিয়রের নাম।
