একসময় বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ছিল জাপানের অবস্থান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির মর্যাদা ধরে রাখলেও বর্তমানে দেশটি নেমে এসেছে চতুর্থ স্থানে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থবিরতা, ইয়েনের অবমূল্যায়ন এবং জনসংখ্যাগত সংকটই এই পতনের প্রধান কারণ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ২০২৬ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এখনো যুক্তরাষ্ট্র, যার জিডিপি প্রায় ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন (২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার), তৃতীয় স্থানে জার্মানি (৫.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে জাপান, যার অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ভারত।
২০ বছরে জাপানের অগ্রগতি থমকে গেছে
২০০৬ সালে জাপানের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৪.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। প্রায় দুই দশক পরও দেশটির জিডিপি প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ১৩.৮১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির এই স্থবিরতার কারণে জাপান প্রথমে ২০১০ সালে চীনের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারায়। এরপর দীর্ঘদিন তৃতীয় স্থানে থাকলেও জার্মানির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের ফলে বর্তমানে জাপান চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে।
ইয়েনের অবমূল্যায়নের বড় প্রভাব
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মূল্য প্রায় ১৮–২০ শতাংশ কমেছে।
যেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের জিডিপি মার্কিন ডলারে হিসাব করা হয়, তাই ইয়েনের মূল্য কমে যাওয়ায় ডলারের হিসাবে জাপানের অর্থনীতির আকার তুলনামূলকভাবে ছোট দেখাচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির র্যাংকিংয়েও দেশটি পিছিয়ে পড়েছে।
জনসংখ্যা সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ
জাপানে জন্মহার ক্রমাগত কমে যাওয়া এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ফলে শ্রমশক্তি সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা ও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের নিম্ন মূল্যস্ফীতি, সীমিত ভোক্তা ব্যয় এবং ধীর বিনিয়োগ অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে।
ভারতের দ্রুত উত্থান
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত জাপানকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস রয়েছে।
সংক্ষেপে
- 🇺🇸 যুক্তরাষ্ট্র: ৩২.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার
- 🇨🇳 চীন: ২০.৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার
- 🇩🇪 জার্মানি: ৫.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার
- 🇯🇵 জাপান: ৪.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার
- 🇬🇧 যুক্তরাজ্য: ৪.২৬ ট্রিলিয়ন ডলার
- 🇮🇳 ভারত: ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার
সামালা টিভি | দেশ ও মানুষের কথা বলে...
