রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেলপথ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, অবরোধ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করার মতো কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন বাজার ও নিমতলী রেলগেটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকস্মিক ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত করার চেষ্টা হতে পারে।
এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের মধ্যে কৃত্রিম অসন্তোষ সৃষ্টি, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যাহত করার অপচেষ্টার আশঙ্কাও করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণে প্ররোচিত করার চেষ্টা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
গাজীপুর ও টঙ্গীর ঘনবসতিপূর্ণ মেস ও বস্তি এলাকাকে ব্যবহার করে বহিরাগত দুষ্কৃতকারীরা অবস্থান নিতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা। অলিগলিতে ছোট ছোট ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ এবং আকস্মিক শোডাউনের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, থানা এবং দূরপাল্লার ও পণ্যবাহী যানবাহন লক্ষ্য করে নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং কৃত্রিম সংকটের প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, রেলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশন ও প্ল্যাটফর্মে টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও পরিত্যক্ত বস্তু শনাক্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রী তল্লাশির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে দেশের সব ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
