ঢাকা , , , বঙ্গাব্দ
সংকটে বড় ভরসা কয়লা বিদ্যুৎ

সংকটে বড় ভরসা কয়লা বিদ্যুৎ

  • `
    Mahi Liakat
    Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka
  • আপলোড সময় : 17 এপ্রিল 2026 02:55:03 অপরাহ্ন
ছবির ক্যাপশন
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে কয়লা বিদ্যুৎই এখন বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। কারণ এখন পর্যন্ত কয়লার দাম নাগালের মধ্যেই আছে। তা ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির কারণে সরবরাহ নিয়ে বড় জটিলতাও নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয়ে লাগাম টানতে এবং লোডশেডিং কমাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সব দিক বিবেচনা করে আমরা এখন কয়লা বিদ্যুতেই প্রাধান্য দিচ্ছি। ফার্নেস ওয়েলের চেয়ে কয়লা বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। তা ছাড়া সরবরাহ নিয়েও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের জটিলতা নেই। তবে পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে কয়লা সরবরাহ না হওয়ায় সেখানে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আশা করছি, শিগগির এই সমস্যা কেটে যাবে। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রামপালের একটা ইউনিটে সাময়িক যে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে সেটিও দ্রুত ঠিক হবে। সবমিলে গ্রীষ্মে কয়লা থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।’ ‘তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কখনই ‘বেজ লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট’ হতে পারে না। টিকে থাকতে হলে চাহিদার একটা বড় অংশ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই উৎপাদন করতে হবে। উন্নত দেশগুলো কয়লা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও আবার এখন তারা কয়লা বিদ্যুতে ঝুঁকছে,’ যোগ করেন তিনি। কয়লাতেই বড় ভরসা : পিডিবির তথ্যমতে, দেশের সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৬১৩৩ মেগাওয়াট। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডে আদানি পাওয়ার লিমিটেড থেকে ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। আদানির কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রটি শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত হওয়ায় এটিও বাংলাদেশের মোট কয়লা বিদ্যুতের সক্ষমতা হিসেবেই ধরা হয়। সে হিসেবে দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা রয়েছে ৭৬২৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে গড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে কয়লার অভাবে পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। একই কারণে মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িক সময়ের জন্য বড়পুকুরিয়া, রামপাল ও আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এসব সংকট দূর করতে কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে আরও অন্তত দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে তিনটি কয়লাবাহী জাহাজ দেশে এসে পৌঁছাবে, যা দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় নিশ্চিতভাবে ১৮ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। কয়লা আমদানির জন্য আরও এলসি দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে কোনো সংকট হবে না। পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে যে সংকট, তা এ মাসেই কেটে যাবে। পাশাপাশি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও সপ্তাহ খানেকের মধ্যে সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন কর্মকর্তারা। এদিকে আগামী ১১ এপ্রিল থেকে আদানি পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও আদানির সঙ্গে অসম বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, যেহেতু আদানির সঙ্গে একটা চুক্তি হয়ে গেছে এবং আমরা সেখান থেকে বড় অংশের একটা বিদ্যুৎ পাচ্ছি। সুতরাং আমি মনে করি, চুক্তি বাতিল করা ঠিক হবে না। বরং চুক্তি পর্যালোচনা করে কয়লার দাম কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটা সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র আদায় করা যেতে পারে। এককথায় কিছু একটা ক্ষতিপূরণ আদায় করে এ বিষয়টি ভুলে যাওয়ায় মঙ্গল হবে। গত বছর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মাত্র ৪৫ শতাংশ সক্ষমতায় চালানো হয়েছে, যদিও এগুলো ৯০ শতাংশ সক্ষমতায় চালানোর জন্য ডিজাইন করা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন কমে আসবে। তাতে বছরে ২৫,০০০-৩০,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। তাতেই ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত একটি জাতীয় কমিটি জানিয়েছে। কমিটি সতর্ক করেছে, অন্তত ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন না করা হলে, চুক্তির বাকি মেয়াদে লোকসান আরও বাড়বে। সংকট কাটাতে এখন কয়লা বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম এখন আকাশচুম্বী। আবার বেশি দাম দিয়েও ঠিকমতো তা আমদানি করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কয়লা বিদ্যুৎই ভালো বিকল্প। এর দামও তেমন একটা বাড়েনি। সরবরাহ জটিলতাও খুব একটা নেই। ফলে এখন কয়লার জোগান ঠিকমতো নিশ্চিত করতে হবে। এতে তেল-গ্যাসের ওপর চাপ কমবে। লোডশেডিং কমার পাশাপাশি বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। ভরসার গ্যাসে দুশ্চিন্তা : গ্যাস সংকটের কারণে এই গ্রীষ্মে মোট ১২,২০৪ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক সক্ষমতার মধ্যে পিডিবি সর্বোচ্চ ৫,২০০ মেগাওয়াট ব্যবহার করতে পারবে, ফলে প্রায় ৭,০০০ মেগাওয়াট বন্ধ থাকবে। এর অর্থ, গ্রীষ্মজুড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকতে পারে, অথচ অলস এসব কেন্দ্রের পেছনে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে। আরও দেখুন কৃষি সরঞ্জাম সাহিত্য পত্রিকা ইসলাম সংবাদ পিডিবির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মের পিক সময়ে ১৮,৫০০ মেগাওয়াট চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে অন্তত ১,২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু সে অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। মার্চে ১০০ কোটি ঘনফুটের চাহিদার বিপরীতে পিডিবিকে পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ করেছে ৮০-৮২ কোটি ঘনফুট। যদিও পেট্রোবাংলার প্রতিশ্রুতি ছিল ৮৭ কোটি ঘনফুট। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এপ্রিলে দৈনিক ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চায় পিডিবি। সরবরাহ ১১০ কোটি ঘনফুট হলে ৫৩৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হবে। বিপরীতে পেট্রোবাংলার বলেছিল, ১০০ কোটি দেবে। তবে এখন ৯৫ কোটি ঘনফুট দেওয়ার কথা ভাবছে পেট্রোবাংলা। ২০২৫ সালের এপ্রিলে গড়ে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে এর পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি ঘনফুট। জ্বালানি বিভাগের আরও এক চিন্তা হচ্ছে বিশ্ববাজার থেকে অতিরিক্ত দামে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কিনতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে। বিশেষ করে স্পট মার্কেট থেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার সাধারণ চুক্তির আওতায় এলএনজি কিনেছে প্রতি ইউনিট ৯ থেকে ১০ ডলারে। এখন যুদ্ধের কারণে সেই এলএনজি কিনতে হচ্ছে প্রতি ইউনিট ২০ থেকে ২৮ ডলারে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে কাতার এনার্জি এবং ওমানের চুক্তি আছে এলএনজি সরবরাহের জন্য। গত মাসে কাতার এবং ওমানের গ্যাস টার্মিনাল যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই দুই দেশ চুক্তি অনুযায়ী গ্যাস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বাতিল করা হয়েছে এলএনজির পার্সেলগুলো। এখন স্পট থেকে এলএনজি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। কারণ আগে এলএনজি কিনে এনে স্থানীয় গ্যাসের সঙ্গে মিশ্রণ করলে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম পড়ত ২৮ টাকা। আর পেট্রোবাংলা সেই গ্যাস বিক্রি করত প্রতি ইউনিট ২৩ টাকা ৪৬ পয়সা। এখন এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় পেট্রোবাংলার প্রতি ইউনিট গ্যাসের গড় দাম পড়ছে ৩২ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট গ্যাস বিক্রিতে সরকারের ক্ষতি ৮ টাকা ৭৪ পয়সা। সংশ্লিষ্টরা জানান, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত পেট্রোবাংলার ভর্তুকি দরকার হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তথ্যপ্রযুক্তি গ্যাজেট ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্র : সরকারি ও বেসরকারি খাতে এসব কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট। তবে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রর মালিকেরা বলছেন, ধারদেনা করে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো অবস্থানে তারা নেই। বকেয়ার কারণে নতুন করে তেল আমদানির এলসি খুলতে পারছি না, যা তেল মজুদ রয়েছে চাহিদার ওপর নির্ভর করে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী জুন পর্যন্ত তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের কাছে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা বিশেষ বরাদ্দ দরকার। এর মধ্যে জ্বালানি খাতে ৩১ হাজার এবং বাকি টাকা বিদ্যুৎ খাতের জন্য। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন। তবে সরকার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বারবার নাচক করে আসছে। যুদ্ধের কারণে বেশি টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। গত সপ্তাহে বিপিসি প্রতি লিটার ডিজেল কিনেছে ১৮০ টাকারও বেশি দিয়ে। অথচ বিক্রি করছে প্রতি লিটার ১০০ টাকা করে। বিপিসি জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এরপর মার্চ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এজন্য প্রতি মাসে ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ চার মাসে ভর্তুকি দরকার ১৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস দিয়ে ৪৪.০৯ শতাংশ, কয়লায় ২৬.৭২ শতাংশ, ফার্নেস অয়েলে ১০.৭৩ শতাংশ জোগান এসেছে। গ্যাস দিয়ে উৎপাদনে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়েছে ৭.০৯ টাকা, কয়লায় ১৩.২০ টাকা, ফার্নেস অয়েলে প্রায় ১৯ টাকা, আদানির বিদ্যুৎ আমদানিতে ১৪.৮৬ টাকা, ভারত সরকারের কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম পড়েছে ৮.৭১ টাকা এবং সৌরবিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৫.৪৬ টাকা। সে কারণে ফার্নেস অয়েলের উৎপাদন বৃদ্ধি মানেই লোকসান বাড়ানো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহৃত হয়। উৎপাদন ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা : প্রতি ইউনিটের গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ খরচ প্রায় ১৩ টাকা। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েল বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১৯ টাকার মতো। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে ৫ দশমিক ৭২ টাকায়। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির কারণে গত অর্থবছরে ভর্তুকি দেওয়ার পরও পিডিবির লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রাখতে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হবে অর্থমন্ত্রীর কাছে। প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে, বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি-আইপিপির বিদ্যুৎ কিনে লোকসান দিতে হবে পিডিবিকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে পিডিবির সঙ্গে চীন, ভারতসহ বিভিন্ন যৌথ বিনিয়োগ এবং সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ কিনতে সংস্থাটির লোকসান হয় আরও ১৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে চলতি অর্থবছরে পিডিবির লাগবে ৬৫ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যার মধ্যে (৩৬ হাজার কোটি টাকা) এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এখন ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি চাইতে পারে বিদ্যুৎ বিভাগ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Mahi Liakat

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
Mahi Liakat

Mahi Liakat
Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka

সর্বশেষ সংবাদ
শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

LIVE TV