বয়স ১৫ এর কম হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিশুরা।
বৃহস্পতিবার আমিরাতের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এরই মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো বিভিন্ন দেশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর যেসব দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরব আমিরাত।
মন্ত্রিসভার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই ১৫ বছরের কম বয়সীদের তৈরি করা অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হলে আমিরাতে সেসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১২ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, এই কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি, ব্যবহার কিংবা পরিচালনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
‘‘তারা এসব প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বা ফিচার ব্যবহারের সুযোগও পাবে না। এই শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান, পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার করা এবং কোনও পাবলিক গ্রুপ, ওপেন চ্যানেল বা বড় কোনও ইন্টারেক্টিভ স্পেসেও যুক্ত হতে পারবে না।’’
গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর আরও কয়েকটি দেশ এই পথ অনুসরণ করে। এর মধ্যে ব্রিটেনও চলতি সপ্তাহে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ডব্লিউএএম বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে কোনও প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সতর্কবার্তা পাঠানো, প্ল্যাটফর্মটিকে আংশিক বা পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া কিংবা প্রযোজ্য প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা।
সূত্র: এএফপি।
