হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে এর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এমপি পদ শূন্য ঘোষণার আবেদন
রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটকারীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় দাখিল করা হলফনামায় হান্নান মাসউদ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তার সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
তবে রিটে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি আদালতে শুনানি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।
শুনানি হবে হাইকোর্টে
রিটকারীর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
শুনানিতে হলফনামায় উত্থাপিত অভিযোগ, নির্বাচনী আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের আলোকে সংসদ সদস্য হিসেবে হান্নান মাসউদের পদে থাকার বৈধতা নিয়ে আদালতের কাছে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হতে পারে।
কে এই আবদুল হান্নান মাসউদ?
আবদুল হান্নান মাসউদ ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিতি পান।
পরবর্তীতে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা
হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই রিটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনের সময় হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন করেছেন কি না এবং তা প্রমাণিত হলে তার নির্বাচনী বৈধতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এ বিষয়গুলো সামনে এসেছে।
এখন রিটের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কী বক্তব্য দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
সামালা টিভি | দেশ ও মানুষের কথা বলে...
