প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে সিলেটবাসী
প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে সিলেটবাসী
সিলেট নগরীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জলাবদ্ধতা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে ভুগতে হয় জলজটে। কয়েক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হলেই প্রায় অর্ধেক নগরীজুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেও মুক্তি মেলেনি এ অভিশাপ থেকে। সুরমার নাব্য হ্রাসের কারণে বর্ষায় নগরের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম ছড়া-খালগুলো হয়ে ওঠে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নিষ্কাশনের পরিবর্তে সুরমা থেকে উল্টো খাল ও ছড়া দিয়ে পানি নগরে প্রবেশ করে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এবার জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে সিলেট নগরবাসী চেয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিলেট সফরের দিকে। আগামীকাল সিলেট সফরকালে জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ‘বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীতে পতিত হওয়া তিনটি ছড়া ও খালে স্লুইসগেট নির্মাণসহ প্রায় ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার কাজের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্লুইসগেট নির্মাণ, সুরমার দুই পাড় উঁচু করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে সিসিক প্রায় ৭ হাজার টাকার প্রকল্প তৈরি করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত ঋণ ও অনুদান দিয়ে এই কাজ করা হবে। সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে সুরমার দুই পাড়ে অন্তত ১৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। এতে সুরমার পানি ঢুকে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। এ ছাড়া সুরমার দুই পাড় উঁচু করা হবে। যেখানে উঁচু করার মতো জায়গা নেই সেখানে বন্যা প্রতিরোধক দেয়াল নির্মাণ করা হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরবাসী আধুনিক ও নান্দনিক নদী তীর পাবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সুরমা নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উন্নয়ন নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে।