ঢাকা , , , বঙ্গাব্দ
প্রতিদিন ১০০ কোটি ডলার খরচ : যুদ্ধ নিয়ে মহাবিপদে ট্রাম্প খুঁজছে বাঁচার উপায়

প্রতিদিন ১০০ কোটি ডলার খরচ : যুদ্ধ নিয়ে মহাবিপদে ট্রাম্প খুঁজছে বাঁচার উপায়

  • `
    Mahi Liakat
    Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka
  • আপলোড সময় : 11 মার্চ 2026 01:24:05 অপরাহ্ন
ছবির ক্যাপশন
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ। প্রতিদিন বিপুল সামরিক ব্যয়, জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোটারদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের খরচ প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দেখা দিতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়ার আরলিংটনের কাছে লিবার্টি গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন ৫৬ বছর বয়সী ইয়াম সিতৌলা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানির দাম প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে। কখনো ১০ সেন্ট, কখনো তারও বেশি। গ্রাহকেরা প্রায়ই জানতে চাইছেন কেন দাম বাড়ছে। হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক মাইল দূরের এই স্টেশনেও ইরানে মার্কিন হামলা শুরুর পর থেকে নিয়মিত দাম বাড়ছে। সিতৌলার ভাষায়, তার মালিক প্রায় প্রতিদিনই ফোন করে সাইনবোর্ডে নতুন দাম বসাতে বলছেন। এমনকি সামনে আরও ১ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি অনেকেই সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে দেখছেন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এই পথ বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক মোতায়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মোট ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয় ট্রাম্পের মাগা সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাপিটল হিলের একটি গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির বাজারেও। প্লাইমাউথ ইনস্টিটিউট ফর ফ্রি এন্টারপ্রাইজের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড স্টার্ন বলেন, জ্বালানির দাম অনেক সময় জনমতের বড় সূচক হয়ে দাঁড়ায়। বারাক ওবামাও একসময় বলেছিলেন, তার জনপ্রিয়তার অনেকটা বোঝা যেত গ্যাসের দামের মাধ্যমে। এদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে যে ট্রাম্প বিদেশনীতি নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কি না। যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়, তাহলে দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন তদন্ত, অভিশংসন এবং আইন প্রণয়নে অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জ্বালানির দাম কমানোর উপায় খুঁজতে বলেছেন। এমনকি ফেডারেল গ্যাসোলিন কর সাময়িকভাবে বাতিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের বড় উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে ২৫০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও কম বলেছেন তারা আর্থিকভাবে এগোচ্ছেন। আর ৪৫ শতাংশ বলেছেন খাদ্যের দাম তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের খরচ এবং জ্বালানির দামের চাপ একসঙ্গে বাড়তে থাকলে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Mahi Liakat

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
Mahi Liakat

Mahi Liakat
Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka

সর্বশেষ সংবাদ
শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

LIVE TV