দায় এড়াতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র
দায় এড়াতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র
-
আপলোড সময় : 11 মার্চ 2026 01:32:57 অপরাহ্ন
ছবির ক্যাপশন
দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নতুন ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কয়েক মুহূর্ত পর পাশের একটি স্কুল ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রবিবার ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এ হামলা চালানো হলেও ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো এই দৃশ্য সামনে এলো। একটি নির্মাণস্থল থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওটি বিশ্লেষণ করেছেন অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার জানান, ভিডিওতে যে অস্ত্রটি দেখা গেছে, তার আকার ও বৈশিষ্ট্য মার্কিন নৌবাহিনীর টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
দায় নিয়ে বিতর্ক ও তদন্ত : ভিডিওটি প্রকাশের পর হামলার দায় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, এ হামলা ইরান নিজেই চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলার আঘাতে এত নির্ভুলভাবে দুটি আলাদা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা কম। তাদের ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নির্ভুল লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হতে পারে। তবে এ হামলার দায় এড়াতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে জানান, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় উত্তরে ইসরায়েল এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে স্কুল ভবনে কোনো ধরনের অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, তার নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধ্বংসাবশেষের নমুনা বিশ্লেষণ করা গেলে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং এর উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তাঁর কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ইরান থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগও আছে।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আলাপেও উপদেষ্টাদের বলেছেন যদি যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার না করেন, তাহলে তিনি যুবক খামেনির হত্যাকে সমর্থন করতে পারেন। এই মন্তব্যগুলো এসেছে এমন এক সময়ে, যখন তেলের দাম দ্রুত বেড়ে আবার কমে গেছে। এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক খরচ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে কিছু উদ্বিগ্ন রিপাবলিকান নেতা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ফোনও করেছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে সব কিছুর দামই বাড়ে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগেই চাপের মধ্যে ছিল। এখন এটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এগিয়ে আছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, তার ধারণা, এই যুদ্ধ ‘খুব শিগগির শেষ হয়ে যাবে’। তবে ইরানে চলমান সামরিক হামলা কখন শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি দেননি।
-ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইরানের জনগণ, যারা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, তাদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান; নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই, যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এখনই বিষয়টা শেষ করে ফেলা ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে এবং ইসরায়েল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে আগ্রহী থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসা কঠিন হবে। ওই বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। এই পানিপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুবিধা থাকা অবস্থায় ট্রাম্প সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে না পারা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করবেন না। পরিচিত সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবিরাম যৌথ সামরিক হামলার পরও তেহরান কেন আত্মসমর্পণ করছে না তা নিয়ে ট্রাম্প মাঝে মাঝে বিস্মিত হয়েছেন। এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এই গল্প অজ্ঞাত সূত্রের ভিত্তিতে বানানো নানা আজেবাজে তথ্য দিয়ে ভরা। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি, এসব সূত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককক্ষে উপস্থিত থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল রাখতে কাজ করছেন। শেষ পর্যন্ত এ হামলা কবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবেন সর্বাধিনায়ক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Mahi Liakat
কমেন্ট বক্স