সাইবার অপরাধের উত্থান : ঝুঁকিতে বিশ্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা
সাইবার অপরাধের উত্থান : ঝুঁকিতে বিশ্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা
`
Mahi Liakat
Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka
আপলোড সময় : 11 মার্চ 2026 01:14:59 অপরাহ্ন
ছবির ক্যাপশন
০২৬ সালে এসে বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধের ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার করে তৈরি করা ‘ডিপফেক’ এবং ‘সিনথেটিক আইডেন্টিটি’ এখন সাধারণ মানুষ ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রধান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ‘ইউরো নিউজ’ ও ‘টেকটাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।
নিখুঁত ফিশিং ও ডিপফেক জালিয়াতি :
জালিয়াতির আরেকটি নতুন দিক হলো ‘সিনথেটিক আইডেন্টিটি’ বা কৃত্রিম পরিচয়। অপরাধীরা বিভিন্ন মানুষের চুরি করা তথ্যের খণ্ডিতাংশ ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ও ভুয়া পরিচয় তৈরি করছে। অর্থাৎ অপরাধীরা এখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করে ভুলহীন ও প্রাসঙ্গিক ফিশিং মেইল তৈরি করছে, যা চেনা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে এআই-নির্ভর ছদ্মবেশী প্রতারণা আগের তুলনায় ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও ব্যবহার করে হুবহু কণ্ঠ নকল বা ভিডিও ডিপফেক তৈরি করে ভার্চুয়াল মিটিংয়ে আর্থিক জালিয়াতি করা হচ্ছে।
সিনথেটিক আইডেন্টিটি ও দ্বিমুখী চাঁদাবাজি :
তথ্য বলছে, র্যানসমওয়্যার বা মুক্তিপণ আদায়ের কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে। এতে অপরাধীরা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের খণ্ডিতাংশ জোড়া দিয়ে ‘সিনথেটিক আইডেন্টিটি’ বা কৃত্রিম পরিচয় তৈরি করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে বা সিস্টেমে প্রবেশ করছে। এ ছাড়া র্যানসমওয়্যার হামলার ক্ষেত্রে এখন শুধু তথ্য লক করা হচ্ছে না, বরং তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে ‘ডাবল এক্সটরশন’ বা দ্বিমুখী চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয় থাকায় অনেকেই মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ :
এ সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা এখন ‘জিরো ট্রাস্ট’ (Zero Trust) নীতি বা প্রতিটি ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। এ ছাড়া এআই-চালিত ভুয়া ভিডিও বা অডিও শনাক্ত করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ ও কর্মীদের নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নানান পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।