ঢাকা , , , বঙ্গাব্দ
নতুন গভর্নর ও আমাদের প্রত্যাশা

নতুন গভর্নর ও আমাদের প্রত্যাশা

  • `
    Mollah Liakat Hossain
    None
  • আপলোড সময় : 26 ফেব্রুয়ারি 2026 02:15:55 অপরাহ্ন
ছবির ক্যাপশন
দেশের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক–এর নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করায় ব্যবসায়ী মহল, ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট ও ব্যাংক খাতে অনিয়মের প্রেক্ষাপটে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সবার প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কার্যকর মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজারে অর্থের সরবরাহ ও সুদের হার সঠিকভাবে সমন্বয় করা গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নতুন গভর্নরের কাছে প্রত্যাশা থাকবে—তিনি যেন তথ্যভিত্তিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কঠোর তদারকি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নতুন গভর্নরের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনা প্রয়োজন। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। চতুর্থত, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণেও নতুন গভর্নরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজ শর্তে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে পারলে অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়বে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে। সবশেষে, একটি স্বাধীন ও পেশাদার কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবমুক্ত থেকে নীতিনির্ধারণ করতে পারলে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যাংকিং খাত গড়ে উঠবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত গভর্নরের জন্য শুভকামনা রইল। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে তাঁর বিচক্ষণতা ও সাহসী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই আশা করছে দেশবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Mollah Liakat Hossain

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম, শীতের ফুলে রঙিন প্রকৃতি

LIVE TV