দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করেন।
৩৪৩ সংসদ সদস্যের ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন, আর ছয়জন ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। মির্জা ফখরুল পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৬৭ ভোট বেশি পেয়েছেন।
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটের ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘ সময় পর এবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।
ফলে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
মির্জা ফখরুল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি
ভোটের ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বাসসের প্রতিবেদনেও তাঁকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
ফল ঘোষণার পর সংসদে অভিনন্দন
সিইসি ফলাফল ঘোষণা করার পর সংসদ কক্ষে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান সংসদ সদস্যরা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্য নেতারাও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান।
শুক্রবার শপথ
নির্বাচনে বিজয়ের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। শপথের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকে তাঁকে দেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
বিরোধী প্রার্থী অলি আহমদের অভিনন্দন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদও ফল ঘোষণার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এবার তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি কীভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কী ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন—সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
সামালা টিভি — দেশ ও মানুষের কথা বলে।
